৮ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার হানাদার মুক্ত দিবস।

194

মৌলভীবাজারঃ ৮ ডিসেম্বর, একাত্তর সালের এই দিনে মৌলভীবাজার পুরোপুরি হানাদারমুক্ত হয়। এ দিন পাকাহানাদারদের পরাজিত করে মৌলভীবাজার শহর তথা জেলার সর্বত্র স্বাধীন বাংলাদেশের লাল সবুজ পতাকা ওড়তে থাকে। ডিসেম্বর মাসের শুরু থেকেই মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর যৌথ আক্রমণের মুখে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী পিছু হটতে শুরু করলে প্রতিদিনই বিজয়ের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হতে থাকে।
২ ডিসেম্বর রাতে শমসেরনগর বিমানবন্দর ও চাতলাপুর বিওপিতে হানাদার বাহিনীর ওপর মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর সম্মিলিত আক্রমণে পাক সেনারা টিকতে না পেরে মৌলভীবাজার শহরে ফিরে আসে। ৪ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার শহরের নিকটবর্তী বড়টিলা নামক স্থানে হানাদার বাহিনীর সঙ্গে মিত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর সম্মুখ যুদ্ধ হয়। এ যুদ্ধে মিত্রবাহিনীর ১২৭ সেনা শহীদ হন। পাঞ্জাব রেজিমেন্ট ৪নং হেড কোয়াটার এর ব্রিগেডিয়ার ইফতেখার রানার নেতৃত্বে মৌলভীবাজারের পিটিআই (প্রাইমারী টিচার্স ট্রেনিং) সেন্টারে গড়ে উঠে ব্রিগেড হেড কোয়ার্টার। এখানে নির্মিত ব্যাংকারে বিভিন্ন এলাকা থেকে মুক্তিযোদ্ধা ও নিরীহ মানুষ ও মহিলাদের ধরে এনে হত্যা, নির্যাতন চালানো হয়। যা আজও কালের স্বাক্ষী হয়ে আছে।
৪নং সেক্টরের অধীনে সেক্টর কমান্ডার পাকিস্তান সেনাবাহিনীর চৌকস মেজর সি আর দত্ত’র নেতৃতে মৌলভীবাজারে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। তবে ৮ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার পুরোপুরি হানাদারমুক্ত হলেও ৩ ডিসেম্বর শমশেরনগর ও ৬ ডিসেম্বরই রাজনগর উপজেলায় উড়ানো হয় স্বাধীন বাংলার পতাকা। মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্রবাহিনীর যৌথ হামলা প্রতিরোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় ৫ ডিসেম্বর থেকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর প্রতিরক্ষা ভেঙে পড়তে শুরু করে। ৭ ডিসেম্বর হানাদার বাহিনী শেরপুরে অবস্থান নিলে মুক্তিবাহিনীও শেরপুরের দিকে অগ্রসর হলে পাক বাহিনী সেখান থেকেও পলায়ন করে সিলেটে চলে যায়। ফলে ৮ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার পুরোপুরি মুক্ত হয় এবং আকাশে ওড়ে স্বাধীন বাংলার পতাকা। এরপর থেকেই মৌলভীবাজারের সর্বস্তরের মানুষ ৮ ডিসেম্বর হানাদার মুক্ত দিবস পালন করে আসছে।
৮ডিসেম্বর এ জেলার হানাদারমুক্ত দিবসের সটিক ইতিহাস নতুন প্রজম্মকে জানানো উচিৎ বলে মনে করেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা। যুদ্ধ কালিন সময়ে যে ব্যাংকার ছিলো সে গুলো সংস্কার করার দরকার এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সটিক মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে প্রমান করে দেওয়া এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের বধ্যভূমি, গণহত্যার স্থান সংস্কার ও সংরক্ষনসহ যোদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যরা যথাযথ মর্যাদা পাবে এমটাই আশা করেন মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবার।

এ.এস.কাঁকন, MB TV মৌলভীবাজার।