স্থানীয় শহীদ দিবসে ২৪ জন মুক্তিযোদ্ধাকে গভীর শ্রদ্ধায় স্বরন

213

 

MB প্রতিবেদক :   আজ ২০ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার স্থানীয় শহীদ দিবস।  ১৯৭১ সালের এই দিনে পুরো দেশ যখন বিজয়ের আনন্দে ভাসছিল তখন পাকবাহিনীর ফেলে যাওয়া মাইন বিস্ফোরনে শহীদ হন ২৪ জন মুক্তিযোদ্ধা।

নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে  আজ গভীর শ্রদ্ধায় শহীদদের  স্বরন করেছে মৌলভীবাজারবাসী। প্রতি বছর দিনটি স্থানীয় শহীদ দিবস হিসেবে পালন করে বিভিন্ন সংগঠন।  দিবসটি উপলক্ষে শুক্রবার সকালে মৌলভীবাজার সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মাইন বিস্ফোরনে শহীদ ২৪ জন মুক্তিযোদ্ধার নাম ফলকের সামনে পতাকা উত্তোলন করেন জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান।

পরে শহীদদের স্বরনে এক মিনিট নিরবতা পালন শেষে শহীদদের নাম ফলকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান জেলা প্রশাসন, রাজনৈতিক, সামাজিক,সাংস্কৃতিক সংগঠন সহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। এছাড়া শহীদদের স্বরনে স্মৃতিচারন, কবিতা পাঠের আসর ও সাস্কৃতিক অনুষ্টানের আয়োজন করেছে বিভিন্ন সংগঠন ।

৭১ সালের এই দিনে মুক্তিযোদ্ধারা বাড়ীতে ফেরার উদ্দ্যেশে জড়ো হতে থাকেন মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে। এর আগে শহরের বিভিন্ন জায়গায় পাক বাহিনী ফেলে যাওয়া মাইনগুলো উদ্ধার করে সেখানে একটি কক্ষে রাখা হয়েছিল। হঠাৎ উদ্ধারকৃত মাইন বিস্ফোরণে কেঁপে উঠে বিদ্যালয় এলাকা।

এ ঘটনায় প্রায় অর্ধ শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা আহত হন। এর মধ্যে ২৪ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। পরে ছিন্ন বিচিহ্ন দেহগুলো একত্রিত করে বিদ্যালয় মাঠের এক পাশে সমাধিস্থ করা হয়। বর্তমানে সেখানে ২৪ জন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নাম সম্বলিত স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়েছে। মাইন বিস্ফোরণে শহীদ ২৪ মুক্তিযোদ্ধা হলেন – সুলেমান মিয়া,  রহিম বকস খোকা, ইয়ানুর আলী, আছকর আলী, জহির মিয়া, ইব্রাহিম আলী, আব্দুল আজিজ, প্রদীপ চন্দ্র দাস, শিশির রঞ্জন দেব, সত্যেন্দ্র দাস, অরু দত্ত, শহীদ দিলীপ দেব, সনাতন সিংহ, নন্দলাল বাউরী, সমীর চন্দ্র সোম, কাজল পাল, হিমাংশু কর, জিতেন্দ্র চন্দ্র দেব, আব্দুল আলী, নুরুল ইসলাম, মোস্তফা কামাল, আশুতোষ দেব, তরণী দেব, নরেশ চন্দ্র ধর।

এর পর থেকে এই দিনটিকে স্থানীয় শহীদ দিবস হিসেবে পালন করেন মৌলভীবাজারবাসী  আর  এর সঠিক ইতিহাস প্যাঠ পুস্তকে তুলে ধরার দাবী স্থানীয়দের এবং কি কারনে মাইনগুলো রাখা হয়েছিল সেটা তদন্ত করে উদঘাটন করবে সরকার এমনটাই আশাবাদি  মুক্তিযোদ্ধারা ।