রাজনগর অজ্ঞাত নারীকে হত্যা : ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ

42

MB নিজস্ব প্রতিবেদক : মৌলভীবাজারের রাজনগরে অজ্ঞাত এক নারীকে হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই মহিলাসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত দুজন হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার দায় শিকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্ধি দিয়েছে।

আজ দুপুরে মৌলভীবাজার পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ। এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো: জিয়াউর রহমান।

গ্রেফতারকৃত আসামীরা হলেন, রাজনগর উপজেলার গয়াসপুর গ্রামের মৃত তরমুজ মিয়ার পুত্র জমশেদ মিয়া (৫২), একই উপজেলার চাঁনভাগ গ্রামের হোসেন খাঁর পুত্র বাদশা খাঁ (৩২), সৈয়দনগরের (ভাঙ্গারহাট) ইলাছ মিয়ার পুত্র শিপন মিয়া (৩০), চাঁনভাগ (টিলাগাঁও) গ্রামের মজিদ মিয়া স্ত্রী এনা বেগম ওরফে গোলাপী (৩৫), একই গ্রামের মনির মিয়ার পুত্র জাহাঙ্গীর আলম (২৭) ও সিলেট গোলাপগঞ্জ থানার রনিখাই গ্রামের মৃত আব্দুল কাদিরের স্ত্রী সালমা বেগম (২৫)। এ ঘটনায় পলাতক রয়েছেন মৌলভীবাজার বড়দল গ্রামের মৃত শেখ আবুল কালাম আজাদ এর পুত্র শেখ হুমায়ুন আহমদ(২৫)।

https://www.facebook.com/MoulvibazarTV.MBTV/videos/287345145684605/?t=7

পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ পিপিএম (বার) প্রেস ব্রিফিং-এ জানান, গত ১২ জুন সকালে রাজনগর উপজেলার ২নং উত্তরভাগ ইউপিস্থ চাঁনভাগ দক্ষিন টিলা গ্রামে জনৈক মুকুল মিয়ার আকাশী বাগানে আকাশী গাছ বাগানের একটি গাছ থেকে অজ্ঞাতনামা মহিলার (১৮-২০) ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মৃতদেহ থেকে আলামত জব্দ ও ময়না তদন্তে ধর্ষন ও হত্যার আলামত পাওয়া যায়। পরে মৌলভীবাজার সদর সার্কেল এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ জিয়াউর রহমান নেতৃত্বে রাজনগর থানা অফিসার ইনচার্জ আবুল হাসিম, ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আবুল কালাম, এসআই বিনয় ভূষন, এসআই কালাম ও এসআই অজিত কুমার তালুকদারসহ অন্যান্যদের নিয়ে গঠিত তদন্ত টিম তদন্তের এক পর্যায়ে আসামী জমশেদ মিয়াকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন।

দীর্ঘ কৌশলী জিজ্ঞাসাবাদের পড় আসামী জমশেদ মিয়া স্বীকার করে সেই নারীকে ধর্ষনের পর হত্যা করে তার লাশ গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। জমসেদ এর শিকারোক্তি অনুযায়ী বাকী আসামীদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপার আর জানান, খুন হওয়া নারী একজন দেহব্যবসায়ী ছিল। আসামী সালমা বেগমকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায় যে, অজ্ঞাতনামা মৃত মহিলার ছদ্মনাম সুমি বেগম। তবে তার কোন ঠিকানা জানে না এবং রুকশানা বেগম মৃত ছদ্মনাম সুমী বেগমকে আসামী সালমার নিকট দিয়েছিল। আসামীরা সালমা বেগম এর কাছ থেকে দুই হাজার টাকা চুক্তিতে একরাতের জন্য সেই নারীকে এনেছিল।