মৌলভীবাজার টিসিবির পণ্য বিক্রিতে অনিয়ম

242

মৌলভীবাজারঃ নানা অভিযোগ, অনুযোগ ও অনিয়মের মধ্য দিয়ে চলছে সরকারি সংস্থা, ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পণ্য বিক্রি। পণ্যের স্বল্পতা, দেরি করে স্পটে পণ্য নিয়ে আসা, একজনকে অধীক পরিমান পণ্য বিক্রি করা , দীর্ঘসময় ধরে লাইনে দাঁড় করানোর পর ‘পণ্য নাই’ বলে ক্রেতা বিদায় করে দেওয়ার অহরহ ঘটনা ঘটছে। এতে ক্ষুব্ধ হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। অভিযোগ রয়েছে, টিসিবির এক শ্রেণির কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী কিছু অসৎ ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগসাজশ করে সরকারের এ উদ্যোগ ব্যর্থ করার পাঁয়তারায় লিপ্ত।
আসন্ন রমজানে নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল ও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সরকার টিসিবির মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে চিনি, ছোলা, মসুর ডাল, সয়াবিন তেল ও খেজুর বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়। সরকার নিম্নআয়ের মানুষের কাছে ন্যায্যমূল্যে রমজানের নিত্যপণ্য সরবরাহের লক্ষ্যে সারা দেশের ন্যায় মৌলভীবাজার শহরের বিভিন্ন স্থানে গত ২৩ এপ্রিল(মঙ্গলবার) সকাল থেকে খোলা ট্রাকে করে, নির্ধারিত দুইজন ডিলারদের মধ্যেমে এ কার্যক্রম শুরু করেছে। আর এতে ডিলারদের খাম খেয়ালি শুরু হয়েছে। সকাল ১০ টা থেকে নির্ধারিত স্পটে ট্রাক নিয়ে এসে পণ্য বিক্রির কার্যক্রম শুরুর কথা থাকলেও বেলা ১২টার আগে স্পট গুলোয় ট্রাক আসে না। ১২টার পর এসে নানা ধরনের আনুষঙ্গিক কাজ সারতে পার করে দেয় ঘণ্টার বেশি সময়, এছাড়া প্রয়োজনের তুলনায় পণ্যের সরবরাহ কম থাকায় সাধারণ ক্রেতা লাইনে দাঁড়িয়ে পণ্য পায় না।
ন্যায্যমূল্যে পণ্য কিনতে আসা মনির বলেন নিয়মের বাইরে গিয়ে মেসার্স খালেক এন্ড ব্রাদার্স ডিলার নিম্নআয়ের মানুষের কাছে পণ্য বিক্রি না করে বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের কাছে পণ্য বিক্রি করছে ।একেক জন ব্যবসায়ী ঐ ডিলারের কাছ থেকে প্রায় প্রতি আইটেম বিশ কেজি করে একসাথে কিনে নিয়ে যায়,যার ফলে সাধারণ ক্রেতা দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পড় পণ্য পাচ্ছেন না।

লাইনে দারানো সেলিম আহমদ বলেন সকালের গাড়ি আসে দুপুরে আমরা খেটে খাওয়া মানুষ লাইনে দাড়িয়ে কোন জিনিস কিনতে পারিনি । সব মাল শহরের বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসা মুদি দোকানদাররা এক সাথে নিয়ে যায়।
তবে এসব অভিযোগ মানতে নারাজ মেসার্স খালেক এন্ড ব্রাদার্স ডিলারের কর্মকর্তা,তিনি বলেন আগে একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ ২ থেকে ৪ কেজি করে নিলেও এখন সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১৫ কেজি নিতে কোন বাধা নেই, অথচ সরজমিনে একজন ক্রেতা কে একসাথে বিশ কেজি প্রতিটা পণ্য দিতে দেখা গেছে, এ বিষয়ে তিনি বলেন যতক্ষণ গাড়িতে মালামাল থাকবে তথক্ষণ পণ্য দিতে কোন বাধা নেই। তাছাড়া মাল থাকলে আমাদের ঊপরে পরবে।
উল্লেখ্য (টিসিবি) পণ্য প্রতি কেজি চিনি ৪৭ টাকা ,মসুর ডাল ৪৪ টাকা, বোতলজাত সয়াবিন তেল ৮৫টাকা লিটার দরে,ছোলা ৬০ টাকা ও খেজুর ১৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একজন ক্রেতা একবারে সর্বোচ্চ ৫ লিটার সয়াবিন, ৪ কেজি করে চিনি, ছোলা, মসুর ও এক কেজি খেজুর কিনতে পারবেন।

:: নিজস্ব প্রতিবেদক, মৌলভীবাজার ::

নতুন সংবাদ ও তথ্যচিত্র দেখতে MB TV সাবস্ক্রাইব করে আমাদের সাথে থাকুন।