মৌলভীবাজার কমলায় এবছর ফলন ভালো- নানা সমস্যায় হতাশ চাষীরা ।

63

:: এ.এস.কাঁকন,মৌলভীবাজার ::

মৌলভীবাজার জেলার কমলা বাগানগুলোতে গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে সুস্বাদু কমলা। তবুও কমলা চাষিদের মুখে নেই আনন্দের হাসি। মৌলভীবাজারের বড়লেখা,জুড়ী,কুলাউড়া উপজেলার পাহাড়ী অঞ্চলে ২০০১ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে কমলা চাষ হচ্ছে। এ জেলার প্রায় সাড়ে চারশোর অধিক চাষী এই কমলা চাষের সঙ্গে জড়িত। এবার মৌলভীবাজার ১৪২ হেক্টর জায়গায় কমলা চাষ করা হয়েছে, এর মধ্যে শুধু জুড়ী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ৮৪টি কমলা বাগানে ৯১ হেক্টর জায়গায় কমলা চাষ করা হয়েছে, এবং ওই বাগানগুলো থেকে চলতি মৌসুমে ৫০০ মেট্র্রিকটন কমলা লেবুর ফলন প্রাপ্তির আশা রয়েছে।

মৌলভীবাজার সহ সিলেট অঞ্চলের কমলা সুমিষ্ট হওয়ায় দেশজুড়ে এর সুনাম আছে বেশ। এবছর মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টি হওয়ায় ফলনও হয়েছে ভালো। শীত ও কুয়াশা শুরু হলে কমলা মিষ্টি বেশি হয় এবং পাকা শুরু করে। কিন্তু ফল পাঁকার মৌসুম শুরুর আগেই বানরের আক্রমন ও অতিরিক্ত বৃষ্টির কারনে একদিকে ঝড়ে পড়ছে কাঁচা কমলা, আর অন্যদিকে মৌসুমের শুরুতেই ভারতীয় কমলা বাজারে চলে আসায় বাধ্য হয়ে মৌসুমের আগে কমলা বিক্রি করে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন এ জেলার চাষীরা। গাছ থেকে পাকা, আধা পাকা কমলা সংগ্রহ ও খাঁচাবন্দি করে পাইকারদের হাতে তুলে দিয়ে লোকসানের টাকা গুনতে হচ্ছে চাষীদের।

জুড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষ্ণ রায় বলেন কমলা বাগান গুলোতে রোগ বালাই সহ নানা সমস্যায় ভোগান্তি নিরসনের ফলে বাম্পার ফলন হয়েছে, তবে ভারতীয় কমলা আমদানীর কারনে দেশী কমলা বাজার হারাচ্ছে তা স্বীকার করে জেলা কৃষি কর্মকতা বলেন,কমলা চাষ উন্নয়ন প্রকল্প চালু হলে মৌলভীবাজার অঞ্চলের কমলা ঐতিহ্য ফিরে আসবে।

দেশী কমলার ঐতিহ্য ধরে রাখতে কমলা চাষ উন্নয়ন প্রকল্প চালুসহ কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর কমলা চাষে সহযোগীতা করবে এবং বাজারে ভারতীয় কমলা আমদানী বন্ধ রাখা হবে এমনটাই দাবী কমলা চাষীদের।