ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ৬ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা জরিমানা

190

MB TV নিজস্ব প্রতিবেদক : মৌলভীবাজারে সুইটস এন্ড বেকারী খাবার তালিকায় একধাপ এগিয়ে রয়েছে স্বাদ এন্ড কোং। প্রতিদিন সবাই তাঁদের পছন্দের খাবার নিতে ভিড় জমান এখানে। মূলত এ প্রতিষ্ঠানের খাবারের মান ভালো, স্বাস্থ্যসম্মত, এমনটাই বিশ্বাস করে সবাই এখান থেকে খাবার কিনতে ও খেতে আসেন।

কিন্তু মানুষের এই বিশ্বাসকে পুঁজি করে স্বাদ এন্ড কোং ভয়াবহ প্রতারণা করে আসছিল। মানুষকে খাবারের সাথে রীতিমতো ‘বিষ খাওয়াচ্ছিল’ তারা। মঙ্গলবার (৮ডিসেম্বর) র‌্যাব-৯ শ্রীমঙ্গল ইউনিটের মেজর আহমেদ নোমান জাকি এর নেতৃত্বে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে শহরের শমশের নগড় রোডে অবস্থিত স্বাদের কারখানা থেকে খাবারে অনিয়মের এ ভয়াবহ চিত্র বেরিয়ে আসে। এ অভিযান পরিচালনা করেন র‌্যাবের নির্বাহী মাজিস্ট্রেট মো. আখতারুজ্জামান।

অভিযানকালে এ কারখানা থেকে খাবারে ব্যবহার নিষিদ্ধ এক বস্তা হাইড্রোস (সোডিয়াম হাইড্রো সালফাইট) জব্দ করা হয়। এই সোডিয়াম হাইড্রো সালফাইট দেহে সহজেই ধ্বংস হয় না। জানা গেছে টেক্সটাইল কারখানায় জিন্স প্যান্টের রঙ পরিবর্তনে এ সালফাইট ব্যবহার করা হয়। এটি খাবারে ব্যবহারের ফলে মানুষের দেহে বড় ধরনের রোগব্যাধি সৃষ্টি হয়। এ কারখানায় খাদ্যে স্বাদ বাড়াতে যে ফুড ফ্লেভার ব্যবহার করা হচ্ছিল, সেগুলো মানসম্মত ছিলনা, নোংরা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সংরক্ষণ করা হয়েছিল মিষ্টি জাতীয় খাবার, এমনকি মিষ্টির তৈরি সিরা থেকে পচা-দূর্গন্ধ বেরহচ্ছিল।

নামি দামি প্রসিদ্ধ বেকারীর কারখানায় এমন অনিয়ম দেখে আঁতকে ওঠেন ম্যাজিস্ট্রেট ও র‌্যাবের কর্মকর্তারা। এভাবে খাদ্যপণ্য উৎপাদনের অপরাধে আইনের বিভিন্ন ধারায় স্বাদ এন্ড কোং কে ৩ লক্ষ টাকা জরিমানা ও তা আদায় করা হয়। এ অভিযানে আর ৪টি বেকারী প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে।

বাসি বিস্কুট, নোংরা ট্রেতে কেক তৈরি, কারখানায় অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে খাবার তৈরির কারনে জরিমানা করা হয় শহরের জুগিডর এলাকার সম্রাট বেকারীকে ১ লক্ষ টাকা, বড়হাট এলাকায় ন্যাশনাল ফুডকে ১ লক্ষ টাকা, পশ্চিমবাজার এলাকায় আল মদিনা ফুডকে ৫০ হাজার টাকা ও শমশেরনগর রোডে আনন্দ বেকারী কে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা ।

অভিযান শেষে র‌্যাবের নির্বাহী মাজিস্ট্রেট মো. আখতারুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন,নিষিদ্ধ হাইড্রোস এবং অপরিষ্কার নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য তৈরীর যে চিত্র দেখা গেছে, এসব খাবার খেলে বড় ধরনের রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হতে পারে মানুষ। এসব অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন এবং নিরাপদ খাদ্য আইনের বিভিন্ন ধারায় ৫টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৬ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা জরিমানা ও তা আদায় করে তাদেরকে সতর্ক করে ছেড়ে দেয়া হয়, এবং নিষিদ্ধ হাইড্রোস ও ভেজাল খাবার ধ্বংশ করা হয়েছে। তিনি বলেন এ ধরনের অভিযান অব্যহত থাকবে। যেখানে অনিয়ম হবে, সেখানেই অভিযান চালিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।