ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জেলা সহকারী পরিচালক লাঞ্ছিত,জিম্মি করে রাখে ব্যবসায়ীরা

182

মৌলভীবাজারঃ মৌলভীবাজার শহরে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নিয়মিত অভিযানের সময় ব্যবসায়ীদের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন জেলা সহকারী পরিচালক আল-আমিন। শহরের এম সাইফুর রহমান রোড এলাকার বিলাস ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে এ ঘটনা ঘটে। জরিমানা আদায় করতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের হাতে লাঞ্ছিত হন তিনি। ব্যবসায়ীদের সাথে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে তাকে অবরুদ্ধ করে, শারীরিক ভাবে লাঞ্চিত করেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। এসময় ব্যবসায়ীরা দোকান-পাট বন্ধ করে প্রায় ২ ঘন্টা সড়ক অবেরোধ করে রাখেন। পড়ে সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাশেদুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনা স্থলে গিয়ে থাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। এসময় জেলা প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ তোলে নেন ব্যবসায়ীরা।

বৃহস্পতিবার দূপুর সাড়ে ১২টার দিকে নিয়মিত অভিযানে শহরের এম সাইফুর রহমান সড়কের কয়েকটি কাপড়ের দোকান ও ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে জরিমানা করতে যান ভোক্তা অধিকারের সহকারী পরিচালক মোঃ আল আমিন। ভোক্তা অধিকার কর্তৃপক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানা যায়, দুপুরে অভিযান শুরু করে শহরের কোর্ট রোডে রাজমহলে ইফতার সামগ্রীতে পোকা থাকায় ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং সেন্ট্রাল রোডের একটি কাপড়ের দোকানে গিয়ে বিদেশী প্যন্টের দাম ২৪০০ টাকা দেখে, পরে কাগজ পত্রে ধরা পরে এটি দেশি প্যান্ট এবং দাম ৭শত টাকা, তাই ঐ দোকানকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এর পর এম সাইফুর রহমান রোডে এমবি ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে পণ্যের অতিরিক্ত দাম, নিজেদের মত দাম নির্ধারণের অভিযোগে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে তা আদায় করা হয় ,এর পাশেই বিলাস ডিপার্টমেন্টালে গিয়ে পন্যের অতিরিক্ত দাম, বিদেশী পন্যের দাম নিজেদের মত করে নির্ধারন, দেশী পন্যকে বিদেশী ব্র্যান্ড নাম দিয়ে বিক্রি করার অভিযোগ ধরা পড়লে, বিলাস কর্তৃপক্ষ তাতে আপত্তি জানায় এ সময় ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক সোহাগ আহমদ জরিমানা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের সহকারী পরিচালক আল-আমিনের সঙ্গে বাক বিতন্ডায় জড়ান তিনি। একপর্যায়ে তিনি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের দিয়ে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।
এ সময় তিনি মাইকে ঘোষনা দেন ভোক্তা অধিকারের কর্মকর্তা তাদের কাছে বেআইনিভাবে পাঁচ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন, সাথেসাথে আশেপাশের ব্যাবসায়ীরা এক হয়ে জেলা ভুক্তা অধিকারের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আল-আমিনকে শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত করে পাশের একটি দোকানে জিম্মি করে রাখে। এ সময় আশে পাশের ব্যবসায়ীরা দোকান পাঠ বন্ধ করে রাস্তায় অবস্থান নেন।

ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন , যখন তখন ভোক্তা অধিকারের অভিযানের কারনে তাদের ব্যবসার ক্ষতি হচ্ছে , তাদের দাবী তাদেরকে না জানিয়ে অভিযান করা যাবেনা ।

এ ব্যপারে জেলা ভোক্তা অধিকারের সহকারী পরিচালক আল-আমিন জানান, পণ্যের অতিরিক্ত দাম, বিদেশী পণ্যে নিজেদের মত করে দাম বসানো এবং পণ্যের গায়ে থাকা দামকে টেম্পারিং করে নিজেদের মত বসানোর অভিযোগে অভিযান চালানো হয়, কিন্তু তারা আমাদের শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত করে সরকারী কাজে বাধা দেয় এবং আমাদের উপর চাদাবাজীর অভিযোগ দেয়। তিনি জানান মিথ্যা অভিযোগ, সরকারি কাজে বাধা, শারীরিক ভাবে আঘাত এ সমস্ত কারণে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

মৌলভীবাজার সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাশেদুল ইসলাম জানান, ভেজাল বিরোধী অভিযানে গেলে ব্যবসায়ীরা থাকে লাঞ্ছিত করে এবং একটি জুয়েলারি দোকানে তাকে জিম্মি করে রাখে , আমরা গিয়ে থাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসি।

:: নিজস্ব প্রতিবেদক. মৌলভীবাজার ::

নতুন সংবাদ ও তথ্যচিত্র দেখতে MB TV সাবস্ক্রাইব করে আমাদের সাথে থাকুন।