বেদনায় ভেতরটা কেমন হাহাকার করে ওঠে : বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান

202

 

MB নিজস্ব প্রতিবেদক :  ‘বয়স তো আর কম হলো না’ ১৯৪৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহন করি। কত হরতাল, অবরোধ, ধর্মঘট ও কারফিউ দেখেছি, কিন্তু স্বাধীনতা দিবসে এমন মৌলভীবাজার শহর আর দেখিনি। রাস্তায় মানুষ নেই, গাড়িও চলছে না। ছোটবড় শপিংমল, মার্কেট, হোটেল রেস্টুরেন্ট, সরকারি-বেসরকারি অফিস, আদালতও বন্ধ। পাখির মতো মানুষ আজ ঘরে ফিরে গেছে। বাইরে করোনা আতঙ্ক।  বের হওয়া যাবে না।  ঘরে থাকতে বলা হয়েছে সবাইকে, নির্জন শহর- জনশূন্য পথঘাট। এ মুহূর্তে মৌলভীবাজার শহর দেখলে বেদনায় ভেতরটা কেমন হাহাকার করে ওঠে- কেননা করোনায় পৃথিবীর অনেক দেশে লম্বা হয়েছে লাশের মিছিল।

বৃহস্প্রতিবার (২৬ মার্চ ) মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে সকালে মৌলভীবাজার শহরে শহীদদের কবরের পাশে একা দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা ও প্রার্থনা করে বর্ষীয়ান রাজিনীতিবিদ, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান স্বাধীনতা পুরস্কার প্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মোঃ আজিজুর রহমান  MB TV কে এভাবেই বলেন স্বাধীনতা দিবসের দিনে তার বেদনাগুলো।

তিনি বলেন, স্বাধীনতা দিবসের আনন্দ কেড়ে নিয়েছে অদৃশ্য ভাইরাস করোনা।  প্রতিবছর মহান স্বাধীনতা দিবস অর্থাৎ (২৬ মার্চের) সকালে মৌলভীবাজার শহীদ মিনার লোকে লোকারণ্য থাকে। মার্চ আমাদের জীবনের অসামান্য এক মাস,  একাত্তরের স্মৃতিকাতর স্মরণকাল। ৭ মার্চে তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার যে ডাক এসেছিল, ২৬ মার্চের সশস্ত্র সংগ্রামে তা পূর্ণতা পেয়েছে। কোনো ধরনের ঘোষণা ছাড়াই ২৫ মার্চ শান্তিপ্রিয় বাঙালির ওপর হায়নার মতো ঝাঁপিয়ে পড়েছিল পাকিস্তানি হানাদাররা।  রাতের অন্ধকারে, অপারেশন সার্চ লাইটের নামে পাকিস্তানি বাহিনী যে গণহত্যা চালিয়েছিল তা পৃথিবীর ইতিহাসে জঘন্যতম এক অধ্যায় ।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান বলেন ২৬ মার্চকে ঘিরে প্রতিবছরই নানা সরকারি-বেসরকারি আয়োজন থাকে। সবাই মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নের দিনটিকে মর্যাদার সঙ্গে স্মরণ করে। মহান স্বাধীনতা দিবসে কাকডাকা ভোর থেকে মৌলভীবাজার শহীদ মিনারে নারী – পুরুষ ও শিশুর ঢল নামে।  বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, উচ্চস্বরে দেশাত্মবোধক গান বাজে, আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে ওঠেন সবাই। কিন্তু এবার ব্যতিক্রমী এক স্বাধীনতা দিবস ।

আজ মানুষ নেই বললেই চলে, আজ মাইকের কোনো শব্দ নেই, নেই মানুষের পদচারণা।  আজ ঘর থেকে বেরোতে মানা। একাত্তরে যেমন হানাদার বাহিনীর ভয়ে মানুষ যে যেখানে পেড়েছে লুকিয়ে ছিল, আজ নোবেল করোনা ভাইরাস (কভিড-১৯) আতঙ্কে ঘরের কোণে ঠাঁই নিয়েছে মানুষ।

এটিও আমাদের জন্য বেদনা। তিনি বলেন জীবনের ঝুঁকি বিবেচনায় আজ তা মেনে নিতে হচ্ছে। দেশের এমন পরিস্থিতিতে বেদনায় ভেতরটা কেমন হাহাকার করছে।

উল্লেখ্য করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে স্বাধীনতা দিবসে এবারের সব আয়োজন বাতিল করেছে সরকার। এ ভাইরাস প্রতিরোধে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ঘোষণা এসেছে (২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল) পর্যন্ত টানা ১০ দিনের ছুটির। এই ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে যার যার বাসায় থাকার জন্য। যাতে অনেক মানুষের জম-সমাগম তৈরি না হয়। লোক সমাগম হলে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার বড় ধরনের আশঙ্কা রয়েছে।  এই ছুটি ঘোষণার পড় মৌলভীবাজার ব্যস্ততম শহর জনশূন্য হয়ে পড়েছে।

মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ভয়ে সবাই সচেতন হয়ে নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন, সবাই যখন বাড়িতে তখন বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মোঃ আজিজুর রহমান একা ছুঁটে যান স্মৃতিসৌধে, সেখানে শহীদদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। করোনাভাইরাসের বিপদ কাটিয়ে আবারও মর্যাদার সঙ্গে স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হবে, শহীদ মিনার লোকে লোকারণ্য হবে এবং আল্লাহ আমাদের সবাইকে ভালো রাখবেন স্বাধীনতা দিবসে এমনটাই আশা ব্যাক্ত করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান।