চাকরি-বাড়ি ভাড়া সব দেখবে সরকার – করোনা নিয়ে ট্রুডোর ঘোষণা

191

 

MB নিউজ ডেক্স :  সেল্ফ আইসোলেশনে থাকা কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো জাতির উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার পরই পাল্টে গেছে কানাডার পুরো দৃশ্যপট। নজিরবিহীন মমত্ববোধের এ বক্তব্যটি এখন বেশ আলোচিত হচ্ছে। দেশের সংকটকালে প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর দেওয়া বক্তব্যটি নিছক কোনো সরকারপ্রধানের ভাষণ নয়। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময়ে সরকারপ্রধানের বক্তব্য যদি নাগরিকদের মনে আস্থা তৈরি না করে, ভরসা না জাগায়, তাহলে তিনি কীসের নেতা!

ট্রুডোর বক্তৃতাটা কেবল একজন নেতার বক্তৃতাই ছিল না, এটি ছিল দুর্যোগকালে পরিবারের প্রধান অভিভাবকের বাকি সদস্যদের বুকে আগলে রাখার মতো ব্যাপার। করোনাভাইরাসের সংক্রমণরোধে হিমশিম খাওয়া বিশ্ব পরিস্থিতি আতঙ্কিত নাগরিকদের সামনে তিনি দাঁড়িয়েছেন নির্ভরতার প্রতীক হয়ে। কানাডায় করোনা আক্রান্তদের বাড়ি ভাড়া থেকে শুরু করে জনগণের সব দায়িত্ব নেয়ার ঘোষণা দেন জাস্টিন ট্রুডো। তিনি বলেন, এ প্রাদুর্ভাবের কারণে তার সরকার কানাডিয়ানদের অর্থনৈতিক দৈন্য-দশায় পড়তে দেবে না। নিজের স্বাস্থ্য, পরিবারের স্বাস্থ্য, চাকরি, বাড়ি ভাড়া নিয়ে চিন্তিত হওয়ার দরকার নেই,  সব সরকার দেখবে।

নাগরিকদের তিনি ধমক দিচ্ছেন না, নির্দেশ দিচ্ছেন না, হুমকি দিচ্ছেন না। তিনি তাদের ঘরে থাকতে অনুপ্রাণিত করছেন। বলছেন, নিজেকে ঘরে রেখে তুমি শুধু তোমার সুস্থতাই নিশ্চিত করছ না, তোমার পরিবারের, তোমার চারপাশের মানুষগুলোর সুস্থতাই নিশ্চিত করছ। জাস্টিন ট্রুডো তার বক্তৃতায় নিজের কিংবা তার সরকারের কোনো কৃতিত্ব দাবি করেননি। তিনি চিকিৎসকদের, স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের প্রশংসা করেছেন, প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা থেরেসা ট্যামের নাম নিয়েই তাকে বাহবা দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো কে অনেকেই একজন কানাডারযোগ্য ও মানবিক রাষ্ট্রনায়ক  বলে আখ্যায়িত করছেন।

কানাডায় এখন পর্যন্ত ৩৪১ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে একজন মারা গেছেন। সুস্থ হয়েছেন ১১ জন। প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো নিজে ও তার স্ত্রী সোফি গ্রেগরি ১৪ দিনের আইসোলেশনে রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর শরীরে এখনো করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেনি। এছাড়া স্ত্রী সোফি করোনায় আক্রান্ত হলেও তার অবস্থা স্থিতিশীল।

নিজ দেশের জনগণের আর্থিক সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি ভ্রমণের বিষয়েও কড়াকড়ি আরোপ করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী। কানাডা সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পাঁচশোর অতিরিক্ত যাত্রী বহনকারী কোনো ক্রুজ জাহাজ কানাডার বিমানবন্দরে প্রবেশ করতে পারবে না। ১ জুলাই পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।