পৌষ সংক্রান্তিতে ঐতিহ্যবাহি মাছের মেলা

181

 

মৌলভীবাজার : মৌলভীবাজার জেলার সদর উপজেলার শেরপুরে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয় তিন দিন ব্যাপি মাছের মেলা। যা এলাকার মানুষের কাছে একটি বড় উৎসবের মত। হাড় কাঁপানো শীতকে উপেক্ষা করে লক্ষ্যাধিক ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগমে মেলায়  উৎসব মুখর পরিবেশ বিরাজ করে। দুইশত বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী এই মাছের মেলাকে সিলেট বিভাগের সবচেয়ে বড় মেলা হিসাবে গন্য করা হয়।

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুরে কুশিয়ারা নদীর তীর ঘেষে ঐতিহ্যবাহি এই মাছের মেলা সোমবার (১৩ জানুয়ারি) রাত থেকে শুরু হয় যা শেষ হয় বুধবার । তিন দিন ব্যাপী এই মাছের মেলায় মাছের পাশাপাশি অন্যান্য পসরার ষ্টল নিয়েও বসেন বিক্রেতারা। এবারের মেলায় ১৭ জন বড় আড়তদার ও ২শত খুচরা মাছ ব্যবসায়ীরা মেলায় অংশ নিয়েছেন। মেলার মাছগুলোর অধিকাংশই নদী এবং হাওড়ের মাছ। প্রতিবছর এই মাছের মেলা এলাকার মানুষের কাছে একটি বড় উৎসবে রূপ নেয়।

মাছ কিনতে ও দেখতে দূর- দরান্তের লোকজনরা এসে ভিড় জমান। অনেকে দেশীয় প্রজাতীর বিরাট আকৃতির মাছ দেখে মহাখুশি। মেলায় সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন হাওর ও বিলের বিশাল আকৃতির দেশিয় প্রজাতির শোল, গজার, বোয়াল, চিতল, বাঘাইড় সহ অন্যান্য মাছ আনা হয়। তবে মেলায় মৌলভীবাজারের হাকালুকি, সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওড় ও কুশিয়ারা নদীর মাছ বেশি প্রাধান্য পায় মেলায় আসা ক্রেতাদের মধ্যে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এই মেলায় মাছ কিনতে আসে। তবে ক্রেতারা বলছেন গতবছরের তুলনায় এবার মাছের দাম ভাল । আর বিক্রেতারা বলছে মেলা উপলক্ষে কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেশিত থাকবেই।

মেলার আয়োজন কারি আশরাফ আহমদ ও অলিউর রহমান   জানান এই মেলায় প্রায় ১৫ কোটি টাকার মাছ ক্রয়-বিক্রয় হয়ে থাকে। তবে জায়গার ভাড়া দিতে গিয়ে মেলার লাভাংশ আর কিছুই থাকে না, এতে তাদেরকে লোকশানে পড়তে হয়,তাই তারা কর্তৃপক্ষের কাছে দাবী জানিয়েছেন ঐতিহ্যবাহী এই মাছের মেলা ধরে রাখার জন্য একটি জায়গা স্থায়ী ভাবে বরাদ্ধ দিলে মেলাটি কালের আবর্তে হারিয়েযাবেনা।

এ বিষয়ে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন জানান, মেলা কমিটির দাবীর প্রেক্ষিতে ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলার জন্য আগামীতে স্থায়ী ভাবে একটি জায়গা দেয়া যায় কিনা সে ব্যাপারে আলাপ আলোচনা করে একটি ব্যাপস্থা গ্রহন করা হবে।

পূর্বে এই মেলাকে কেন্দ্র করে মাসব্যাপী যাত্রা গান, সার্কাস ও পুতুল নাচের নামে নগ্ন নাচ ও রমরমা জুয়ার আসর চলত যা কয়েক বছর যাবৎ বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। পৌষ সংক্রান্তি হিন্দু ধর্মালম্বীদের উৎসব হলেও একে ঘিরে মাছের এ মেলা,এই এলাকার সকল ধর্মের মানুষের কাছে একটি বহু আকাঙ্খিত উৎসব।

MB.TV মৌলভীবাজার