পরিবেশ মন্ত্রী সেজে অভিনব উপায়ে প্রতারণা করতেন রমাপদ

246
ছবি- রমাপদ ভট্টাচার্য ও তার সহকারী মাহমুদ

:: নিজস্ব প্রতিবেদক :: চরম অসুস্থ রমাপদ ভট্টাচার্যকে আর্থিক সাহায্য করার জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সুপারিশ করছেন একজন মন্ত্রী। শুধু তাই নয় ফোন করেও তাগাদা দিচ্ছেন যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব সহায়তার টাকা পৌঁছে দিতে। কখনো কখনো কাজ হচ্ছে। মন্ত্রীর ফোন পেয়ে অসুস্থ ব্যক্তিকে সহায়তা করেছেন তারা। কিন্তু পুরো বিষয়টিই সর্বৈব মিথ্যা। বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে এমন ভয়াবহ প্রতারণা করে আসছিলেন এক ব্যক্তি। আর বিষয়টি অবহিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

২০১৪ সালে কিডনি জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন মৌলভীবাজারের চাঁদনিঘাট ইউনিয়নের সাবিয়া গ্রামের রমাপদ ভট্টাচার্য। তখন তার জন্যে আর্থিক সাহায্য চেয়ে কয়েকটি পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। কিছু সহায়তা পেয়েও ছিলেন। আর সেটিই সুযোগ হয়ে দাঁড়ায় তার জন্যে। পরের পাঁচটি বছর চিকিৎসার নামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা নেয়াই পেশা হয়ে দাঁড়ায় তার। আর এক্ষেত্রে ব্যবহার করতেন তার নিজ এলাকার জনপ্রতিনিধি জাতীয় সংসদের তৎকালীন হুইপ মো. শাহাবউদ্দিনের নাম। এবারের মন্ত্রিসভায় তিনি বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলে সেই পরিচয় ব্যবহার করা শুরু করে রমাপদ।

নিজেই মন্ত্রী সেজে কখনো ফোন করে, কখনো খুদে বার্তা পাঠায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিদের। নিজেই দরখাস্ত লিখে তাতে মন্ত্রীর জাল সিলসহ সুপারিশ করে পাঠিয়ে দেয় ব্যাংক, বিমাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। তার কাছ থেকে এরকম অসংখ্য নকল সিল, প্যাড, মন্ত্রী ও তার একান্ত সহকারীর নামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিদের পাঠানো বহু খুদে বার্তা উদ্ধার করা হয়েছে। এমনকি কোন প্রতিষ্ঠানে কবে চিঠি পাঠাচ্ছেন সে হিসাব রাখার জন্য দুটি খাতা ব্যবহার করতো। কার সঙ্গে কবে যোগাযোগ করা হয়েছে, কে কত টাকা দিয়েছে সব লেখা থাকতো।

রমাপদ বলেন, আমি নিজেই ফোন দিয়ে বিভিন্ন  কোম্পানির এমডির কাছে টাকা চাইতাম। এছাড়াও হুইফের পরিচয় দিয়ে অনেকের সাথে কথা বলেছি।

বেশিরভাগ অনুদানের টাকাই কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে গ্রহণ করতো রমাপদ। কেউ সরাসরি এসে টাকা নিতে বললে পাঠাতো তার এক সহকারীকে।

রমাপদের সহকারী মাহমুদ বলেন, ওই চিঠিগুলো কুরিয়ার করে দিতাম। কোনো চিঠি আসলে সেগুলো কুরিয়ার করে দিতাম।

বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন বলেন, বিষয়টি অবহিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ওয়েব সাইটে আমাদের নম্বর রয়েছে, ভুক্তভোগী লোকজন আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে এরা প্রতারণা করার সুযোগ পাবে না।

এদিকে পুলিশ বলছে, শুধু মন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে প্রতারণাই নয়, বিভিন্ন মানুষকে লন্ডন পাঠানোর নাম করেও প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া গেছে রমাপদের বিরুদ্ধে। আটক রমাপদকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদে এ ব্যাপারে আরও তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা পুলিশের।

গোয়েন্দা ও অপরাধ বিভাগের উপ-কমিশনার মশিউর রহমান বলেন, সে মন্ত্রী না হয়ে মন্ত্রী সেঁজেছেন। এই কারণে তার বিরুদ্ধে পেনাল কোর্টের ৪১৯ ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮ এইগুলো অ্যাপলিক্যাবল।