পপি’র বিরুদ্ধে এবার সংসদ লোগো অপব্যবহারের অভিযোগ, তদন্ত শুরু

59
মনিরা সুলতানা পপির ভুয়া ভিজিটিং কার্ড

:: MB প্রতিবেদক, ঢাকা ::

সিটি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অ্যাসিসট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন মনিরা সুলতানা পপি। ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহেল আর কে হোসাইন-এর পিএস হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় ক্ষমতার অপব্যবহারসহ নানা অভিযোগে তাকে অব্যাহতি দেওয়ার হয়। এরপরই মনিরা সুলতানা ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিনের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ তুলে হয়রানির চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এবার সেই মনিরা সুলতানা পপি’র  বিরুদ্ধে সংসদ লোগো অপব্যবহারের অভিযোগ মিলেছে। জানা গেছে, অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত ভিজিটিং কার্ডে সংসদের লোগো ব্যবহার করেছেন তিনি। এছাড়া সংসদ ভবনে প্রবেশের পাস ফেরত দেননি তিনি। এ কারণে  মনিরা সুলতানার পপি’র বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়েছে।  অভিবাসন ও উন্নয়ন বিষয়ক সংসদীয় ককাশের চেয়ারম্যান ও নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলমের নির্দেশে তার ব্যক্তিগত সহকারী আশিক মল্লিক ১৫ সেপ্টেম্বর শেরেবাংলা নগর থানায় সাধারণ জিডি করেন, যার নম্বর-৯৪২। ইতোমধ্যে সংসদ সচিবালয় বিষয়টি তদন্তও শুরু করছে।

আশিক মল্লিক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের ছেলে বর্ষণ ইসলামের রেফারেন্সে চলতি বছরের এপ্রিলের দিকে মনিরা সুলতানা ককাশ চেয়ারম্যানের দপ্তরে কাজ শুরু করেন। তবে আচরণ সন্তোষজনক না হওয়ায় মাসখানেক পরেই তাকে না আসার জন্য বলা হয়। আনুষ্ঠানিক কোনো পদে নিয়োগ দেওয়া না হলেও মনিরা সুলতানা নিজ উদ্যোগেই জাতীয় সংসদের লোগো ব্যবহার করে ককাশ চেয়ারম্যানের (ইসরাফিল আলম) সচিব পরিচয়ে ভিজিটিং কার্ড বানান এবং নিজস্ব কাজে তা ব্যবহার করেন। ভিজিটিং কার্ড বানানোর ক্ষেত্রে ককাশ চেয়ারম্যানের দপ্তরের কারো অনুমতি না নেওয়ায় বিষয়টি ইসরাফিল আলমের অগোচরে থেকে যায়।

মনিরা ও সিটি ব্যাংকের পাল্টাপাল্টি মামলার খবর গণমাধ্যমে এলে ভিজিটিং কার্ডের অপব্যবহারের বিষয়টি নজরে আসায় জিডি করা হয়েছে। সংসদের লোগো ব্যবহার করে নিজের নামে বানানো কার্ড অপব্যবহার করায় মহান সংসদের সম্মান ক্ষুণ্ন হচ্ছে উল্লেখ করে ওই কার্ডের ব্যবহার ও বিতরণ বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশকে অনুরোধ করা হয়েছে।  এছাড়া বারবার বলার পরেও সংসদে প্রবেশের পাস (অনুমতিপত্র) ফেরত দেননি মনিরা, যা জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকেও বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

জাতীয় সংসদ চত্বরের এমপি হোস্টেলের দুই নম্বর ব্লকে ককাশের কার্যক্রম পরিচালনা করেন ইসরাফিল আলম। অভিবাসীদের উন্নয়নে কাজ করে এমন বেসরকারি সংস্থা ও সংগঠনকে সঙ্গে নিয়ে অভিবাসন ও উন্নয়ন বিষয়ক সংসদীয় ককাশের কার্যক্রম পরিচালনা হয়ে থাকে। এমন একটি সংস্থা ওয়ারবি (ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন ফর রাইটস অব বাংলাদেশি মাইগ্রেন্টস) ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন।

ককাশ অফিসের আগে ওয়ারবিতে কাজ করতেন বলে জানিয়েছিলেন মনিরা। তবে ওয়ারবির সাধারণ সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতা ফারুক আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মনিরা কখনোই তার সংস্থায় কাজ করেননি। মহাখালীর ডিওএইচএস’র ওয়ারবি কার্যালয়ে মনিরাকে কয়েকবার আসতে দেখেছিলেন মাত্র।

এসব বিষয় নিয়ে মনিরার সঙ্গে মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা হলেও কোনো সাড়া দেননি তিনি। রাজধানীর পূর্ব নূরের চালা এলাকায় তার বাসায় যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।