চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মহিলা সদস্যের লিখিত অভিযোগ,ষড়যন্ত্র বলছেন মনসুরনগর ইউনিয়নবাসী!

171

মৌলভীবাজার :  মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার ৮নং মনসুরনগর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে জনসম্মুখে সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য (৭, ৮ ও ৯) সুফিয়া বেগম কে লাথি মেরে চেয়ার থেকে ফেলে দিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে একই ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান মিলন বখত এর বিরুদ্ধে। এ ঘঠনার বিবরন দিয়ে মহিলা সদস্য (সংরক্ষিত) সুফিয়া বেগম রাজনগর থানায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ করেন।

লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন ঘঠনার দিন শনিবার (২৩ মে) সকাল ১০টায় ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের কক্ষে চেয়ারে বসে তিনি ত্রাণ গ্রহনকারীদের নামের তালিকা লিখছিলেন, এমন সময় হঠাৎ করে চেয়ারম্যান এসে তাকে অকত্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন, তিনি প্রতিবাদ জানালে চেয়ারম্যান উওেজিত হয়ে তাকে প্রাণে হত্যার উদ্দেশ্যে চেয়ার থেকে লাথি মেরে ফেলে দেন।

এসময় তিনি তার প্রাণ বাঁচাতে ঘঠনাস্থল থেকে পালিয়ে পাশে জনসাধারনের মধ্যে ত্রাণের চাল বিতরণের স্থানে চলে যান। সেখানেও চেয়ারম্যানের লোক তাঁর উপর আক্রমন করে তাকে মারপিট করে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করে, তার গলায় থাকা স্বর্ণের চেন ও ব্যাগে থাকা নগদ তিন হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। সেখানে উপস্থিত ত্রাণগ্রহনকারী লোকজন সে সময় তাকে প্রাণে রক্ষা করেন। ঘঠনার পড়ের দিন ২৪ মে তিনি থানায় গিয়ে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেন।

এ অভিযোগের পড় পুড়ো উপজেলা জুড়ে চলছে তোলপাড়। এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ ঘঠনা সম্পূর্ণ মিথ্যে বলে দাবি করছেন চেয়ারম্যান ও এলাকাবাসী। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায় লিখিত অভিযোগে ঘঠনার সময় সকাল ১০টা উল্লেখ করা হয়, অথচ ঐদিন ত্রাণ বিতরন করা হয়েছিল দুপুর ১২টায়।  আর ঘঠনার প্রত্যক্ষ দর্শিরা বলছেন সেদিন ত্রাণগ্রহনের সময় এমন কোন কিছু তাড়া দেখেন নি।

https://www.facebook.com/MoulvibazarTV.MBTV/videos/279151366536780/?t=1

 

মূলত ঘঠনার দিন চেয়ারম্যান মিলন বখতের কাছে তালিকার বাহিরে অতিরিক্ত ত্রাণ চেয়েছিলেন মহিলা সদস্য (সংরক্ষিত) সুফিয়া বেগম, চেয়ারম্যান তা দিতে অপারগতা জানালে উপস্থিত ত্রাণগ্রহনকারীদের সামনে দুজনের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়, এক পর্যায়ে চেয়ারম্যান কিছুটা উওেজিত হয়ে তাকে সেখান থেকে চলে যেতে বলেন।

এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন মহিলা সদস্য (সংরক্ষিত) সুফিয়া বেগমের বিরুদ্ধে তার নীজ এলাকায় নানা অভিযোগ রয়েছে, তার বিরুদ্ধে অনেকের কাছ থেকে টাকা নিয়ে কাজ করে দেয়ার নানা দূর্নীতির অভিযোগও আছে। এসব বিষয়ে চেয়ারম্যান কথা বলেন বলে তিনি মহিলা হিসেবে বার্তি সুবিধা নিয়ে তাকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানোর চেষ্ঠা করছেন বলে অভিযোগ করেন এলাকা বাসী।

অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে মহিলা সদস্য (সংরক্ষিত) সুফিয়া বেগমের বাড়ীতে গেলে তিনি সাংবাদিকদের সাথে দেখা করেননি, এমনকি সাংবাদিকদের কথা জানতে পেড়ে তিনি তার ব্যবহিত মোবাইল ফোনও বন্ধ করে দেন। তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে রাজনগর থানার ওসি আবুল হাশেম বলেন ঘটনার দিন ইউনিয়ন পরিষদে প্রথমে দুপুর ১২টায় চেয়ারম্যান ও মহিলা সদস্য (সংরক্ষিত) সুফিয়া বেগমের মধ্যে একটু ঝামেলা হয়, এরপড় বিকেল তিনটায় সুফিয়া বেগমের ছেলেরা চেয়ারম্যান মিলন বখত এর উপড় আক্রমণ করলে চেয়ারম্যানের ফোন পেয়ে পুলিশ ঘঠনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।  তিনি জানান উভয় গঠনায় দুজনই থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।  এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।

পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পনা করে মহিলা সদস্য সুফিয়া বেগম চেয়ারম্যান মিলন বখত কে মিথ্যে অভিযোগে ফাসানোর চেষ্ঠা করছেন,  শুধুমাএ মহিলা হিসেবে বিবেচনা না করে, সঠিক তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জন্য প্রশাসনকে অনুরোধ জানিয়েছেন রাজনগর উপজেলার ৮নং মনসুরনগর ইউনিয়নবাসী।

MB TV মৌলভীবাজার :