চিরনিদ্রায় শায়িত ভাষা সৈনিক রওশন আরা বাচ্চু

156

 

MB প্রতিবেদক :  মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় সর্বস্থরের মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন ভাষা সৈনিক রওশন আরা বাচ্চু। বুধবার ৪ ডিসেম্বর সকাল ১১টায় মৌলভীবাজারের কুলাউড়া নবীন চন্দ্র মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তাঁর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় তাঁকে শেষ বারের মতো শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ প্রশাসন, কুলাউড়া উপজেলা প্রশাসন, কুলাউড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন।

তাঁর জানাযার পূর্বে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় অংশ নেন জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন, পুলিশ সুপার ফারুক আহমদ, ভাষা রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডাঃ এম এ মুক্তাদির, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম ফরহাদ চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কুলাউড়া সার্কেল) সাদেক কাওসার দস্তগীর, কুলাউড়া পৌরসভার মেয়র শফি আলম , জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। নামাজে জানাজা শেষে পার্শবর্তী উছলাপাড়া গ্রামের নিজ পৈতৃক বাড়িতে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রওশন আরা বাচ্চুর মরদেহ বাংলা একাডেমিতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান অনুরাগী, সহযোদ্ধা, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ৩ ডিসেম্বর মঙ্গলবার ভোর রাতে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যু কালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। চার মেয়ে , আত্মীয় স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী তিনি রেখে গেছেন।

ভাষাসৈনিক রওশন আরা বাচ্চু ১৯৩২ সালের ১৭ ডিসেম্বর মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার উছলাপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা এ এম আরেফ আলী, মা মনিরুন্নেসা খাতুন। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ১৪৪ ধারা ভেঙে ভাষাসৈনিক রওশন আরা বাচ্চু আন্দোলনে মিছিল করেন।

পিরোজপুর গার্লস স্কুল থেকে ম্যাট্রিক, বরিশালের ব্রজমোহন কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করে ১৯৫৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনে অনার্স ও পরে ইতিহাসে এমএ পাস করেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনগুলোতেই রওশন আরা গণতান্ত্রিক প্রোগ্রেসিভ ফ্রন্টে যোগ দিয়ে জড়িয়ে পড়েন ছাত্র রাজনীতিতে। সলিমুল্লাহ মুসলিম হল এবং উইম্যান স্টুডেন্টস রেসিডেন্সের সদস্যও নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।

একুশে ফেব্রুয়ারিতে যে ছাত্রনেতারা ১৪৪ ধারা ভাঙতে চেয়েছিলেন তিনি ছিলেন তাদের অন্যতম। সেদিন তার নেতৃত্বেই ইডেন মহিলা কলেজ এবং বাংলাবাজার বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় সমাবেশস্থলে সমবেত হয়। সমাবেশস্থলের বাইরে তখন পুলিশ ব্যারিকেড দিয়েছে। আরও কয়েকজন ছাত্রীকে সঙ্গে নিয়ে রওশন আরা বাচ্চু সেই ব্যারিকেড ভেঙে ফেলেন এবং দলের অন্যদের নিয়ে বেরিয়ে যান। পুলিশ এলোপাথাড়ি লাঠিপেটা শুরু করলে আহত হন দুজন, তাদের একজন ছিলেন রওশন আরা।

ঢাকার আনন্দময়ী স্কুল, লিটল অ্যাঞ্জেলস, আজিমপুর গার্লস স্কুল, নজরুল একাডেমি, কাকলি হাই স্কুলে তিনি শিক্ষকতা করেছেন দীর্ঘ দিন। সবশেষে ২০০০ সালে বিএড কলেজের অধ্যাপক হিসেবে অবসরে যান সংগ্রামী এই নারী।