চলতি মৌসুমে চায়ের ইতিহাসে সর্বোচ্চ উৎপাদন রেকর্ড চা-শিল্পের

177

 

মৌলভীবাজার :  অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে এ বছর লক্ষমাএার চেয়ে বেশি উৎপাদন হয়েছে চা।  যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ উৎপাদন, তবে আমদানি নির্ভরতা না কমায় আর চায়ের মূল্যপতনে সংকটে এখাতের বিনিয়োগকারীরা।  প্রতিকেজি চা-তৈরিতে সর্বোচ্চ খরচ  দুইশত টাকা হলেও তা বিক্রি করতে হচ্ছে মাএ একশ আশি টাকায়। তারউপড় পার্শবর্তী দেশ ভারতের চা দেশের বাজার দখল করে রাখাতে উৎপাদন বৃদ্ধি পেলেও সঠিক ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত চা-শিল্প। বাজারে চায়ের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন চা সংশ্লিষ্টরা।

চায়ের রাজধানি কিংবা চায়ের দেশ, বলা হয় মৌলভীবাজারকে। সারা দেশে সরকারী, ব্যক্তি মালিকানাধীন ও বিদেশী কোম্পানীর ছোট বড় মিলিয়ে মোট ১৬২টি চা বাগান গড়ে উঠেছে, যার মধ্যে ৯২টি চা-বাগানই রয়েছে মৌলভীবাজার জেলায়। সিলেটের মালনীছড়া চা-বাগানে ১৮৫৪ সালে দেশে প্রথম বাণিজ্যিকভাবে চা-উৎপাদন শুরু হয়।

দেশের চা-শিল্পের ১৬৫ বছরের ইতিহাসে চলতি চা উৎপাদন মৌসুমে (২০১৯) অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে প্রায় ৯৫ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদন করে চা-শিল্পের ইতিহাসে সর্বোচ্চ উৎপাদন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে চা-শিল্প। চা উৎপাদনে নতুন রেকর্ডের পথে এগিয়ে এখন বাংলাদেশ। সরকারের নানামুখী দিকনির্দেশনা আর চা বাগান মালিকদের নতুন কিছু উন্নয়নমূলক উদ্যোগ ও মৌসুমের শুরুতে পরিমিত বৃষ্টি এবং অনুকুল আবহাওয়া দেশের অন্যতম অর্থকরী ফসল চা উৎপাদনে আশীর্বাদ বয়ে এনেছে, ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশের চা শিল্প।

তবে বাজারে চায়ের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন চা সংশ্লিষ্টরা, হামিদিয়া চা বাগানের জেনারেল ম্যানেজার – মোঃ সিরাজুল ইসলাম বলেন, চা- উৎপাদন বাড়লেও চায়ের বাজার দর তাদের হাতে নেই, প্রতিকেজি চা-তৈরিতে একশত আশি টাকা থেকে দুইশত টাকা খরচ হলেও বাধ্য হয়ে তা বিক্রি করতে হয় মাএ একশত চল্লিশ থেকে একশ আশি টাকায়। তিনি বলেন টি বোর্ডের আয়োজনে ২০১৮ সালের ১৪মে শ্রীমঙ্গলে দেশের ২য় চা নিলাম কেন্দ্রে চায়ের অকশন শুরু হলেও নানা কারনে এখানে বাইরের ব্রকার না আসার কারনে চা স্টকে থেকে যায়, ফলে বাধ্য হয়েই তাদের চা চট্রগ্রাম নিলাম কেন্দ্রে পাঠাতে হয়।

আর বাংলাদেশ টি এসোসিয়েশন, সিলেট ব্রাঞ্চের চেয়ারম্যান – গোলাম মোহাম্মদ শিবলী বলেন পার্শবর্তী দেশ ভারতের চা দেশের বাজার দখল করে রাখাতে চায়ের সঠিক বাজার দরের মূল্যপতন গঠছে। অভিলম্বে তা বন্ধ করতে হবে।

বাংলাদেশ চা বোর্ড সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে দেশের চায়ের অভ্যন্তরীন চাহিদা ৯০ মিলিয়ন কেজি।  ২০১৬ সালে ৮৫ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদন করে সর্বকালের শ্রেষ্ট রেকর্ড করেছিল চাশিল্প। পরবর্তী বছর ২০১৭ ও ২০১৮ সালে আবার উৎপাদন কমে আসে। আর চলতি বছরের নভেম্বর মাস পর্যন্ত ৯০মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদন হয়েছে। ডিসেম্বর মাসে চায়ের উৎপাদন যোগ হয়ে প্রায় ৯৫ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদন হবে।  এতে দেশের অভ্যন্তরীন চাহিদা মিটিয়ে আবারও চা রপ্তানি করা সম্ভব হবে বলে জানালেন বাংলাদেশ চা বোর্ড,  প্রকল্প উন্নয়ন ইউনিট (পিডিইউ) পরিচালক – ড. এ.কে.এম রফিকুল হক।

অনুকুল আবহাওয়ার পাশাপাশি সঠিক পরিচর্যা ও চা চাষের উপযোগী জমি প্রতি বছর বৃদ্ধি, চায়ের উন্নত জাত সংগ্রহ করে চাষ করলে চায়ের উৎপাদন আরো বাড়ানো সম্ভব। পাশাপাশি সঠিক পরিকল্পনা গ্রহন করে, ভারত থেকে নিম্ন মানের চা উৎপাদন বন্ধ করলে দেশের অর্থনীতীতে চা-শিল্প বিশেষ ভুমিকা রাখবে বলে অভিমত চা-শিল্পের সাথে জড়িত সকলের।