সরকারী আমন ধান ক্রয়ে অনিয়ম, কার্ড হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

38

 

মৌলভীবাজার :  মৌলভীবাজারের রাজনগরে সরকারীভাবে আমন ধান ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অস্বচ্ছ ও অসংগতিপূর্ণ কৃষক তালিকা দিয়ে বিক্রেতা নির্বাচন করা হয়েছে। বঞ্চিত হয়েছেন প্রকৃত আমন চাষীরা। যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত আমন চাষীদের ধান বিক্রয়ে সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়ার আশ্বাস  দিচ্ছেন  কর্তৃপক্ষ।

মৌলভীবাজার রাজনগর উপজেলায় ১৪শ ১৭ টন আমন ধান ক্রয়ের লক্ষে ফতেপুর ইউনিয়নে ধান বিক্রয়ে কৃষক তালিকা করেছে কৃষি বিভাগ। এ তালিকা দিয়ে লটারীর মাধ্যমে কৃষক নির্বাচন করা হয়েছে। তবে তালিকা সম্পর্কে জানেন না প্রকৃত আমন চাষীরা। যাদের আমন ধান নেই, এমন কৃষকদের তালিকায় অর্ন্তভূক্তি, বিভিন্ন গ্রামের ৫৭ জন কৃষকদের তারিকায় একটি মোবাইল ফোন নাম্বারসহ তালিকায় বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ করেছেন আমন চাষীরা। ফলে ধান বিক্রয়ে সরকারের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।

এই চিত্র উপজেলার ৮ টি ইউনিয়নের কৃষক তালিকায় রয়েছে।  একটি প্রভাবশালী ব্যবসায়ী চক্রের যোগ সাজুশে এই তালিকা তৈরী করা হয়েছে। এছাড়া গ্রামের দরিদ্র কৃষকদের প্রলোভন দিয়ে ৫শ থেকে এক হাজার টাকার বিনিময়ে কৃষি কার্ড ক্রয় করেছে এই ব্যবসায়ী চক্র,  এ ধরনের অসংখ্য অভিযোগ করছেন স্থানীয় কৃষকরা।

তালিকায় অসংগতির অভিযোগ স্বীকার করে উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো.শাহাদুল ইসলাম বলেন, লটারীতে নির্বাচিত কৃষক তালিকা অধিকতর যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।  প্রকৃত আমন চাষী না হলে কার্ড জব্দ করা হচ্ছে, ভূল তালিকা তৈরী করার কাজে জড়িতদের চিহ্নিত করতে কাজ চলছে। এরই মধ্যে ফতেপুর ইউনিয়নে লটারীতে নির্বাচিত ৩৬ জনের মধ্য থেকে ২০ জনকে বাদ দেয়া হয়েছে এবং কার্যক্রম অব্যাহত আছে বলে জানান তিনি।

এদিকে উপজেলা ধান সংগ্রহ কমিটির সভাপতি ফেরদৌসী আক্তার জানিয়েছেন অনিয়মের অভিযোগ শুনার পর আমন ধান বিক্রয়ের আরেকটি কৃষক তালিকা তৈরীর নির্দেশ দেয়া হয়েছে পরবর্তিতে আবারও লটারী করার বিবেচনা করা হবে , প্রকৃত আমন বিক্রয় কৃষকরা বঞ্চিত হবেন না বলে আশ্বাস দেন তিনি।

ভূয়া তালিকা তৈরীর সাথে জড়িতদের শাস্তি সহ প্রকৃত আমন চাষীরা সরকারী গুদামে ধান বিক্রয় করার সুযোগ পাবেন এমটাই প্রত্যাশা করছেন কৃষকরা।

MB TV. মৌলভীবাজার